শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রা‌মের প্রধান ৫ প‌ত্রিকা অ‌নি‌র্দিষ্টকা‌লের জন্য বন্ধ শতভাগ উজাড় করে দিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হোনঃ স্বাস্থ্যকর্মীদের রেজাউল করিম চৌধুরী ঈদ বোনাসের দাবিতে আজাদী সম্পাদকের বাসা ঘেরাও সিইউজে’র পশুর হাটের নিকটবর্তী শাখায় রাত ৮ টা পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন আওয়ামী লীগের দলীয় তহবিলের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ইপিজেড থানার কথিত ক্যাশিয়ার সুলতান ও জাহাঙ্গীরের বেপরোয়া চাঁদাবাজি সরকারের ব্যর্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে : মির্জা ফখরুল স্বাস্থ্যের ডিজির কাছে অভিযোগ করলেন শাজাহান খানের মেয়ে বিএমএসএফ-বন্দরজোন কমিটির প্রথম কার্য্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় উত্তরাঞ্চলে পানি বাড়ছে,আর কমছে সিলেটে

অধিপতি অধিপত্যের লোভে ধ্বংস হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা

এম.জে.জুয়েল
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
সমাজে অধিপতিদের আধিপত্য বিরাজের প্রভাব যুগের পর যুগ ধরে চলমান প্রথা প্রচলিত হয়ে আসছে । সমাজের নিচু জাত কিংবা অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, দূর্বল মানুষদের সেখানে ভাগ করে বিভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হতো।
প্রাচীন যুগের থেকেই অধিপতিরা বিভিন্ন অপকর্ম, বর্বর, পৈচাশিক কাজ করতো তাদের আধিপত্যের জোরে। নিচু জাত, অসচ্ছল, গরীব মানুষদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতো তারা তাদের মতো করে। যাতে গরীব, অসচ্ছল, নিচু জাতের মানুষগুলো কখনো তাদের মুখের উপর কথা বলতে না পারে,, আর বললেও তাদের বিভিন্ন রকমের শাস্তি ভোগ করতে হতো।
বাকস্বাধীনতা যেমন হারাতো, তেমন নিজেদের মত করে বাচাঁর অধিকার। যদিও সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবাবী মানুষরা জম্মগ্রহন করে এই ধারার বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন এনেছেন। প্রাচীন যুগ থেকে প্রচলিত এই ধারা অব্যাহত থাকলেও আধুনিক যুগে এসে এর খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে।
কিন্তু নির্মূল হয়নি এই অধিপতিতের সংখ্যা,, এই অধিপতি আখ্যা দেওয়া মানুষগুলো বর্তমান সমাজে বিভিন্ন রূপে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অযোগ্যতায় পরিপূর্ণ এই অধিপতি নামের মানুষগুলো, যখন সমাজের নেতা হয়ে নেতৃত্ব দেয়,, তখন সমাজের সেই প্রাচীন যুগের আধিপত্য বিরাজমান ধারার কার্যক্রমগুলো অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করে।
যুগের সাথে এবং পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে দেশে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না সুশিক্ষা। যার ফলশ্রুতিতে সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে বর্তমান সমাজের নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা। স্বল্প জ্ঞানে, জ্ঞানী হওয়ার মনমানসিকতা এবং নেতৃত্বের লোভে, এই মানুষগুলো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে নেতা বনে যায়। হয় সমাজের কর্নধার। সুশিক্ষিত মানুষগুলোকে নানা অপবাদ দিয়ে সরিয়ে রাখে সমাজের আটকুঠুরিতে।
আত্ম সম্মানবোধের জন্য অনেকেই সকল অপমান মুখ বুঝে সহ্য করে জীবনযাপন চালায়। কেউবা আবার প্রতিবাদের স্লোগান দিতে গিয়ে নিজের জীবন বলী দিয়ে চলে যেতে হয় পরপারে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে যেখানে মানবিকতার চেয়েও অর্থনৈতিক গুরুত্বটাই বেশি। টাকার শক্তির কাছে সকল সভ্যতা কিংবা সুশিক্ষাই যেন নত জানু করতে বসেছে।
আধুনিকতার বিকাশে অধিপতি এবং অধিপত্যের যেন নানা রকম পরিবর্তন হয়েছে। আগেকার অধিপতি বা অনেক ধনী ব্যাক্তিরা যেমন ছিল পৈতৃক বংশীয় সূত্র ধরে। কিন্তু বর্তমানের সমাজে বেশির ভাগ আধিপত্য প্রভাব খাটানো মানুষগুলো উঠে এসেছে বিভিন্ন রকমের অন্ধকার জগৎ থেকে। এদের মধ্যেই বেশির ভাগ মানুষেরই আছে যেমন শিক্ষার অভাব, তেমনি অভাব রয়েছে সু শিক্ষার। কিন্তু এরাই এখন সমাজের নেতা। যাদের জন্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে প্রথম সারির চেয়ার।
এরা নেতৃত্ব দিচ্ছে শত শত মানুষের। অধিপত্য বিরাজের মাধ্যমে নিজেদের অবাধ্য কিংবা মতের বিরুদ্ধে গেলেই সরিয়ে দিতে হবে, এমন ধারণা নিয়েই এদের চলমান অবস্থা। অনেকেই সমাজে ভালমানুষির মুখোশ পড়ে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম তাদের নেতৃত্ব। এদের প্রায় সকলেই ধংষ করে দিচ্ছে যুব সমাজ কে। যে বয়সের যুবক রা যাবে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে,, জ্ঞান আহরনের জন্য! সে বয়সে তাদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নেতা বানানোর নামে ধংষ করে দিচ্ছে এই সকল কুশিক্ষিত নেতারা । জড়িয়ে দিচ্ছে সমাজ এবং দেশ ধংষের মত নানা অপকর্ম এবং সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডে।
যারা একটা সময়ে ঠিকমতো দু বেলা দুমোঠু খেতে অসুবিধা হয়ে যেত, তারা কি করে রূপকথার আলাদিনের চেরাগের মত এত দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে? যাক ধরে নিলাম বিশেষ কোন বিষয়ের প্রভাবে সে এত এত টাকা পয়সার মালিক হয়েছে।
কিন্তু কেন? এখন তারা সমাজের সংস্কারের বিভিন্ন সিধান্ত নিবে। তাদের কেন এ ক্ষমতার অধিকার দেওয়া হলো,,
শুধুই কি তাদের অলোকিক টাকা পয়সার ক্ষমতায়?? একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তো টাকা পয়সা বা অর্থনৈতিক বিষয় দিয়ে তৈরি করা যায় না,, সুন্দর শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত নেতৃত্ব ,, আর এইসকল স্বল্প দিনের টাকা পয়াসার মালিক বনে যাওয়া অশিক্ষিত নেতাদের হাতে সমাজ ব্যবস্থা বা সমাজের অধিপত্য থাকলে সমাজের অতিদ্রুত ধংষাবশেষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের ।
কিছু কিছু জায়গায় দেখা যায়, ভাল পড়াশোনা করে নেতা হয়েছে। বড় বড় ডিগ্রিও রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক লোভের দংশনে বিষাক্ত হয়ে গেছে তাদের শিক্ষিত হওয়ার মানুসিকতা।
এমনও হতে পারে তারা এই বড় বড় ডিগ্রি পেয়েছে, কিন্তু তাদের সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার শিক্ষা পেয়েছে কোন স্বল্প শিক্ষিত অনৈতিক নেতার পেছনে থেকে।
শিক্ষা যেমনি হোক যদি তা হয় সুশিক্ষা তাহলে তো পরিবর্তন আসবেই, আর শিক্ষা যত সুউচ্চ ই হোক না কেন তা যদি না হয় সুশিক্ষা তাহলে তো সমাজ অন্ধকারেই পতিত হবে।
বর্তমান সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে এখনো মানুষ তাদের কথা বলার স্বাধীনতা হারাচ্ছে । সমাজের অধিপতিদের অধিপত্যের কারনেই এমন পরিস্থিতির স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই অধিপতিদের অধিপত্যে থেকে সকলকে বেড়িয়ে আসতে হবে। সুন্দর স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য সকলকে সমষ্টিগত ভাবে এই অধিপতিদের ভয়ংকর নীল নকশা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

দেশের নিউজ’র ই-পেপার::

বিজ্ঞাপন::

বিজ্ঞাপন::

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
Shahriar@01717698939